বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা চলতি বছর রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) ‘কোল ২০২৫’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৈশ্বিক জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কয়লার ব্যবহার কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখনো এটি সবচেয়ে বড় জ্বালানির উৎস। তাই চলতি বছর জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা বেড়ে রেকর্ড ৮৮৫ কোটি টনে পৌঁছেছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। খবর রয়টার্স ও বিজনেস রেকর্ডার।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কয়লা ব্যবহারে ভিন্নধর্মী প্রবণতা দেখা গেছে। এ সময় ভারতে টানা ভারি মৌসুমি বৃষ্টির কারণে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। ফলে এ সময় দেশটিতে পাঁচ দশকের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো কয়লা ব্যবহার কমেছে।
বিশ্বে শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ চীন। দেশটিতে চলতি বছর জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল। আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিতে কয়লার ব্যবহার কিছুটা কমতে পারে। তবে চীনে বিদ্যুতের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত বাড়লে অথবা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে ধীরগতি দেখা দিলে কয়লার চাহিদা পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি হতে পারে।
আইইএ আরো জানায়, বিশ্বব্যাপী কয়লার চাহিদা চলতি বছর রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছলেও ২০৩০ সালের মধ্যে তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরমাণু ও প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা কমার পেছনে ভূমিকা রাখবে।
আইইএর ডিরেক্টর অব এনার্জি মার্কেটস অ্যান্ড সিকিউরিটি কেইসুকে সাদামোরি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘কয়লার বৈশ্বিক চাহিদা স্থিতিশীল হয়ে আসছে। চলতি দশকের শেষ পর্যন্ত তা খুব ধীরে ও ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করবে।’
আইইএ আরো জানায়, অন্যান্য দেশে কমলেও ২০৩০ সালের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে কয়লার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি বাড়বে ভারতে। দেশটিতে চাহিদা গড়ে প্রতি বছর ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। এ সময় জ্বালানি পণ্যটির মোট ব্যবহার পৌঁছতে পারে ২০ কোটি টনে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় চাহিদা ৪ শতাংশের বেশি বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রধান উত্তোলনকারী দেশগুলোয় কয়লা উত্তোলন কমতে পারে। তবে এ সময় আমদানিনির্ভরতা কমাতে কয়লা উত্তোলন বাড়াতে পারে ভারত সরকার। এর আগে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছিল, দীর্ঘমেয়াদে ভারতে কয়লার ব্যবহারও ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী কয়লার ব্যবহার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে। বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন (ইভি), শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও ডাটা সেন্টারের বিস্তারের ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কারণে কয়লার ওপর নির্ভরতা কমতে থাকবে।